ছোটবেলা থেকেই গোয়েন্দা গল্পের মধ্যে বেশিরভাগ শিশুদের একটা উৎসাহ থাকে। আমি ছোটবেলায় কাকাবাবু, ফেলুদার গল্প পড়ে, চলচ্চিত্র দেখে গোয়েন্দা গল্পের প্রতি একটা অটুট আকর্ষণ তৈরি হয়েছে। তারপর বয়স বাড়ার সাথে সাথে ব্যোমকেশ চরিত্রের উপর ভালোলাগা জন্ম নেয়। তবে বলা বাহুল্য বাঙালির গোয়েন্দা গল্পের জনপ্রিয়তার বা ভালোলাগার কারণের ব্যাকবর্ন হলো প্রতিটি গোয়েন্দা চরিত্রের সহায়ক চরিত্র।
যেমন ব্যোমকেশের সাথে থাকে অজিত এবং কাকাবাবুর সাথে সন্তু। ব্যোমকেশের সাথে বেশিরভাগ গল্পেতেই অজিতকে তার সঙ্গী হিসাবে দেখা যায়। গল্প অনুসারে ব্যোমকেশ সকল রহস্যের সমাধান করে এবং সকল ঘটনার বিবরণ হিসাবে পুস্তক লেখেন অজিত। আমরা গল্পে প্রধান বক্তা হিসাবে অজিতকেই পাই। এছাড়াও বহু গল্পে ব্যোমকেশের সাথে অজিতকে মুখ্য ভূমিকায় দেখতে পাওয়া যায়। অন্যদিকে কাকাবাবুর চরিত্রের হাতের লাঠি হল সন্তু। সকল রহস্য সমাধানে কাকাবাবুর মনের জোর থাকলেও সন্তু ছাড়া দূরে দূরে গিয়ে কাকাবাবুর পক্ষে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হতো না। কারণ সন্তুর বয়স কম হওয়ায়, কম বয়সের যে তীব্রতা তার পুরোপুরি কাজে লাগাতে হয় কাকাবাবুকে ।
এবার ধরা যাক যদি কাকা বাবুর সহায়ক হিসাবে থাকলো অজিত আর ব্যোমকেশের সহায়ক হিসাবে থাকলো সন্তু। তাহলে পুরো ঘটনায় এক অদ্ভূত বোঝাপড়া লক্ষ করা যায় । যা হয়তো কখনো আমাদের ভাবনাতেও আসেনি। কাকা বাবুর সাথে যদি অজিত থাকতো তাহলে কাকা বাবু কখনই আফ্রিকা থেকে শুরু করে অন্যান্য দূরবর্তী এলাকায় যাওয়ার সাহস পেতো না। কারণ বহু লড়াই তে আমরা কাকাবাবু কে হাতের লাঠি নিয়েই মারপিট করতে দেখলেও সঙ্গে অজিত থাকলে হুট করে সন্তু যেমন মাটি থেকে বন্ধুক কুড়িয়ে নিমেষের মধ্যে কাকা বাবুর দিকে ছুড়ে দেয়। সেইরকম হয়তো মধ্য বয়স্ক পেটুক অজিতের পক্ষে এই প্রকার তীব্রতা দেখানো সম্ভব হতোনা । অন্যদিকে ব্যোমকেশ যেমন অজিতকে নিজের মোক্ষম চাল হিসাবে ব্যবহার করে সেই জায়গায় সন্তু থাকলে অজিতের বুদ্ধি তথা তার যেই ভাবে ব্যোমকেশের ঘটনাকে ব্যাখ্যা করা সেটা হয়তো আমরা সবাই ব্যোমকেশ পাঠকরা অভাব বোধ করতো।