বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে প্রকৃতি এবং আধুনিকীকরণ শব্দ দুটি যেন একে অপরের প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে। আধুনিকীকরণে মাতোয়ারা সারা বিশ্ব যেন প্রকৃতি ধ্বংসের খেলায় মেতে উঠেছে। আধুনিকীকরণের অর্থ শুধুমাত্র গ্রামীণ অথবা কৃষি ভিত্তিক সমাজ থেকে শহর, শিল্প সমাজে রুপান্তর এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিৎ নয় বরং মানুষের জীবনযাপনে স্বাভাবিক উন্নয়নের পাশাপাশি গ্রামীণ অথবা কৃষিভিত্তিক ক্ষেত্রেও আধুনিকীকরণ ঘটানো ও প্রকৃতিকে নষ্ট না করে সেটিকে উন্নতর উপায় ব্যাবহারের মাধ্যমে আধুনিকীকরণকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়াস হওয়া উচিৎ।
বহুকাল আগে থেকেই ঘটে চলেছে প্রকৃতি ও পরিবেশের উপর মারাত্মক অত্যাচার। সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা শহর গড়তে গিয়ে বুজিয়ে দিয়েছে গ্রামের অসংখ্য ছোটখাটো জলাশয় ও চাষআবাসের জমি। এই বিষয়টি কোনও নতুন বিষয় নয়। পরিব্রাজক স্বামী বিবেকানন্দ এ বিষয় বলেছিলেন –
“হুঁ বলি এই বেলা এ গঙ্গা মা-র শোভা যা দেখবার দেখে নাও, আর বড় একটা কিছু থাকছে না। দৈত্য-দানবের হাতে পড়ে এ সব যাবে। ওই ঘাসের জায়গায় উঠবে ইটের পাঁজা, আর থাকবে ইটখোলার গর্তকুল। যেখানে গঙ্গার ছোট ছোট ঢেউগুলি ঘাসের সঙ্গে খেলা করছে, সেখানে দাঁড়াবে পাট বোঝাই নৌকো, আর সেই গাধা বোট, আর ওই তাল-তমাল আর আঁব লিচুর রং, ওই নীল আকাশ, মেঘের বাহার ওসব কি আর দেখতে পাবে? দেখবে পাথুরে কয়লার ধোঁয়া আর মাঝে মাঝে ভূতের মতো অস্পষ্ট দাঁড়িয়ে আছে কলের চিমনি।”
এই কথাগুলি বর্তমান সময়ে সত্যি হয়ে উঠেছে, গড়ে উঠছে নদ নদীর ধারে অন্যায়ে ভাবে বেআইনি নির্মাণ, কলকারখানা, ইটভাটা আরও কতকিছু। বুজিয়ে দাওয়া হচ্ছে জলাশয়। এর ফলে যা ক্ষতি হওয়ার তা হচ্ছে পরিবেশ, নদ নদনদী ও প্রকৃতির। যার প্রতিফলন হল একমাস আগেই ঘটে যাওয়া জলপাইগুড়ি জেলার অন্যতম বড় নদী মালের হড়পা বান।
বর্তমান সময়ে সরকারের উপযুক্ত ব্যাবস্থাও গ্রহন করার মাধ্যমেও ঘটছে প্রকৃতি ও পরিবেশেও আধুনিকীকরণ। তবে এ বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপও গ্রহন করছে বিভিন্ন সরকার। প্রকৃতি ও পরিবেশে আধুনিকীকরণ ঘটাতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এ বছরের ‘বেঙ্গল গ্লোবাল বিজ়নেস সামিট’-এ গ্রহন করেছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। কিভাবে কৃষকরা একই জমিতে বিকল্প চাষ করে বাজারের চাহিদামাফিক ফসল ফলাতে পারে এবং আয় বৃদ্ধি হতে পারে সেই দিকটি দেখছে সরকার। এই প্রকল্পের নাম রাখা হয়েছে ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ এবং এর লক্ষ্য হল আধুনিক চাষের ধারণা ছড়িয়ে দেওয়া। ক্ষুদ্র বা প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে প্রযুক্তি, আধুনিক চাষের জ্ঞান বৃদ্ধির মাধ্যমে বাজারে চাহিদা সম্পন্ন শস্য চাষের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধি করা। এইভাবেই বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে ঘটতে পারে প্রকৃতির ব্যবহার ও আধুনিকীকরণের পরিবর্তন।