ফের বড় সাফল্য নাসার। বসুন্ধরা কে মহাজাগতিক বস্তুর হাত থেকে রক্ষা করার পরীক্ষায় সফল নাসার ডাট মিশন। সাত বছর ধরে করা গবেষণা সফলের প্রাথমিক রিপোর্ট কার্ড পাওয়া গেল মঙ্গলবার রাতে। সপ্তাহন্তে পাওয়া যেতে পারে চূড়ান্ত রিপোর্ট কার্ড।
মহাকাশে প্রায়শই পৃথিবীর কাছাকাছি চলে আসে বিশালাকার সব গ্রহাণু। কখনো কখনো সেগুলো পৃথিবীর কান ঘেঁষে বেরিয়ে যায়, পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষ হলে যেগুলো বয়ে আনতে পারে ভয়ানক বিপদ। আর সেই বিপদ থেকেই পৃথিবীকে রক্ষা করতে নাসার গবেষকরা বানিয়েছেন ডাট মহাকাশযান।
মহাকাশে ঘুরতে থাকা ডাইমরফোস নামে এক বিশাল গ্রহাণুকে ধাক্কা মারে ডাট। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন প্রায় ৫২৫ ফুট চওড়া এই গ্রহাণুর আকারে আস্ত একটি ফুটবল স্টেডিয়ামের মতন ।তবে আপাতভাবে পৃথিবীর কোন বিপদের সম্ভাবনা ছিল না এই ডাইমরফোসের থেকে। তার ওপর শুধুমাত্র পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হয়েছিল ডাট। এটির অবস্থান পৃথিবী থেকে এক কোটি ১০ লক্ষ কিলোমিটার দূরে। ডাইমরফোস প্রদক্ষিণ করছে ডিডাইমোস নামের ওপর একটি গ্রহাণুকে। যেটি প্রায় ২৫০০ ফুট চওড়া। দু’টি গ্রহাণুই পৃথিবীর নিকটবর্তী মহাজাগতিক বস্তু হিসাবে মনে করা হয়।
সাত বছর ধরে করা পরিকল্পনা, গবেষণার পর গত বছর নভেম্বরে ডাট মহাকাশযানটি পাঠায় নাসা। গতিবেগ চলে ঘন্টায় ১৪ কিলোমিটার। অন্যদিকে যে গ্রহাণু তে ধাক্কা মারে তার আয়তন প্রায় একটি ফুটবল স্টেডিয়ামের সমান। এদিন ডাট হামলা সফলের পর, নাসার মুখপাত্র বলেন, “ফলাফল মানুষ ১ – গ্রহাণু ০ “।
ডাটের ডাইমরফোসে ধাক্কার ছবি ধরা পড়েছে নাসার বিভিন্ন টেলিস্কোপে। ডাটের ধাক্কার ফলে ডিডাইমোসের চারপাশে ডাইমরফোসে প্রদক্ষিণের সময় কমতে পারে প্রায় ১০ মিনিট। তবে যদি কমপক্ষে ৭৩ সেকেন্ডও কম হয় তবে অভিযান সফল বলে গন্য করা হবে।