৯৪ বছর বয়সে মারা গেলেন বিখ্যাত চেক সাহিত্যিক মিলান কুন্দেরা ও বিংশ শতকের বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম মুখ । মিলান কুন্দেরা লাইব্রেরির পক্ষ থেকে তাঁর মৃত্যুসংবাদ জানিয়েছেন। বহুদিন ধরে বার্ধক্য জনিত বিভিন্ন রোগে তিনি ভুগছিলেন। শেষে ২০২৩,১১জুলাই তিনি পরলোক গমন করেন।
মিলান কুন্দেরার সাহিত্য বিচিত্র পথগামী। প্রাথমি পর্বে তাঁর লেখালিখিতে রাজনৈতিক উচ্চারণ প্রকট থাকলেও পরে তিনি সেই ধারা থেকে বেরিয়ে আসেন এবং ইউরোপীয় নবজাগরণ পর্বের সাহিত্যের উত্তরাধিকার তিনি বহন করছেন বলে জানান।
১৯২৯-এর জাতক কুন্দেরা কবিতা, নাটক, প্রবন্ধ-সহ সাহিত্যের প্রায় সব শাখাতেই তাঁর অবদান রেখেছেন। ১৯৪৮-এ কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন কুন্দেরা। কিন্তু ১৯৫০-এই পার্টি থেকে তাঁকে বিতাড়ন করা হয় কমিউনিজ়ম-বিরোধী কার্যকলাপের জন্য।১৯৫৬-এ তাঁকে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হলেও ১৯৭০ সালে আবার তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। ১৯৭৫ সালে দেশ থেকেও বিতাড়িত হন তিনি এবং ফ্রান্সে বসবাস করতে শুরু করেন। ১৯৮১ সালে তিনি ফ্রান্সের নাগরিকত্বও লাভ করেন। যদিও পরে তাঁর চেক নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হয়, তবু নিজেকে ফরাসি লেখক হিসাবে পরিচয় দিতেই পছন্দ করতেন কুন্দেরা।১৮৮৪ সালে ‘দি আনবিয়ারেবল লাইটনেস অফ বিইং’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হলে সাহিত্যমহলে আলোড়ন পড়ে যায়।দীর্ঘ জীবনে বহু বার বিতর্কে জড়িয়েছেন কুন্দেরা। ২০০৮ সালে তাঁর বিরুদ্ধে চেকোস্লোভাকিয়ার কমিউনিস্ট সরকারের চরবৃত্তির অভিযোগও ওঠে। তবে তাঁর রচনার মতো এই সব অভিযোগকে তিনি শ্লেষের সঙ্গেই উড়িয়ে দেন। ২০১৯ সালে তাঁকে চেকোস্লোভাকিয়ার নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
কুন্দেরার জন্ম চেকোস্লোভাকিয়ার বার্নো শহরে। তাঁর বাবা লুডভিক কুন্দেরা ছিলেন খ্যাতনামী পিয়ানোবাদক ও সঙ্গীততত্ত্ববিদ। বাবার হাত ধরেই শিল্পের জগতে প্রবেশ কুন্দেরার। প্রাথমিক ভাবে সঙ্গীতের শিক্ষা লাভ করলেও পরে তিনি মনপ্রাণ ঢেলে দেন লেখালেখিতেই।
কুন্দেরার রচনায় স্বৈরশাসন বা স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতার বিরুদ্ধে বার বার প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়েছে। তবে সেই প্রতিবাদ কখনই উচ্চকিত ছিল না। তাঁর সাহিত্যের মাধ্যমে কোনও ‘বার্তা’ দিতে তিনি পছন্দও করতেন না।
তিনি তার জীবনে বহুবার পুরস্কার পেয়েছেন যেমন১৯৮৫ সালে তিনি জেরুজ়ালেম পুরস্কার পান। ১৯৮৭তে পান তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ ‘দি আর্ট অফ নভেল’-এর জন্য পান অস্ট্রিয়ার স্টেট প্রাইজ ফর ইউরোপিয়ান লিটারেচার।