ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান ৮ মাস অতিক্রান্ত। তবুও যুদ্ধ থামার কোন ইঙ্গিত নেই ,বরং সময় সময়ে ক্রমশ বাড়ছে আক্রমণের তীব্রতা। বৃহস্পতিবার সকালে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ফের কেঁপে উঠল ইউক্রেনের রাজধানী কিভ। ইরানে তৈরি কামিকাজো ড্রোন হামলায় ধ্বংসের কবলে কিভের একটি পাঁচতলা আবাসন। ক্ষতিগ্রস্ত শহরের একাধিক এলাকা। দ্রুত শুরু হয় উদ্ধার কাজ। নিহতের সংখ্যা এখনো স্পষ্ট নয়।
সাইরেন, বিস্ফোরণে শব্দে ঘুম ভাঙা কার্যত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে ইউক্রেনবাসীর। মাঝে যুদ্ধের তীব্রতা কিছুটা কমলেও, শনিবার ক্রিমিয়া সেতুতে বিস্ফোরণের পর ফের আগ্রাসী মনোভাব রাশিয়ার। রবিবার থেকে একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে উঠছে ইউক্রেনের একাধিক শহর। তবে এবারের হামলায় রাশিয়ার ব্যবহারে ইরানের তৈরি কামিকাজো ড্রোন। বৃহস্পতিবার সেই ড্রোন হামলায় কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে কিভের পশ্চিমের মাকারীভ শহর , ক্ষতিগ্রস্ত মাইকোলিভ শহরের একাংশ।
হামলার পর স্থানীয় মেয়র জানান রাতভর হামলা চালায় রাশিয়া। মিসাইল এসে পড়ে পাঁচ তলা এক আবাসনে এবং যার জেরে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয় আবাসনের ওপরের দুটি তলা। নিহতের সংখ্যা সঠিক করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় প্রশাসন।
৮ মাস ধরে যুদ্ধ চলার পর ইউক্রেনের চারটি শহরকে নিজেদের কবলে ঘোষণা করতে তড়িঘড়ি গণভোট করতে উদ্যত হন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন। আর এর মাঝেই শনিবার বিস্ফোরণে কার্যত ধ্বংস হয়ে যায়
রাশিয়া অধিকৃত ক্রিমিয়া ও রাশিয়ার মধ্যে সংযোগকারী কেচ সেতু। আর সেই বিস্ফোরণের সম্পূর্ণ দায় ইউক্রেনের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে রাশিয়া। সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ বলেও অভিহিত করেছেন রুশ রাষ্ট্রপ্রধান। এবং শনিবার এই বিস্ফোরণের পর থেকেই ফের রাশিয়ার আগ্রাসী মনোভাব প্রকাশ্যে। রবিবার সকাল থেকেই একের পর এক মিসাইল হামলা চালায় ইউক্রেনের উপর। সংবাদ সংস্থা সূত্রের খবর সোমবার ৭৬ টি মিসাইল হামলা চালান রাশিয়া। প্রাণ যায় কমপক্ষে ২৪ জনের আহত হয় শতাধিক মানুষ।
বিগত কয়েক মাসের হামলার থেকে এবারের হামলা আরো ভয়ানক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল, যার প্রধান কারণ হিসেবে উঠে আসছে ইরানিয়ান ড্রোনের ব্যবহার ইউক্রেন সামরিক বাহিনীর সূত্রে খবর চলতি সপ্তাহে তারা প্রায় ডজন খানেক মিসাইল এবং ১৩৬ টি ড্রোন নামিয়েছেন।
অন্যদিকে রাশিয়ার হামলা ঠেকাতে পশ্চিমী দেশগুলি অস্ত্র সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইউক্রেনকে। তবে সব মিলিয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয় তা এখনো বলা যাচ্ছে না।