পুরো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে প্রায় প্রতি ম্যাচে গোল করে দলকে টানছিলেন সুনীল ছেত্রী। কিন্তু সেমি ফাইনালে জ্বলে উঠলেন গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং সাঁধু। ক্লাব ফুটবল থেকে দেশের হয়ে ম্যাচে সুযোগ হয় গুরপ্রীত সিংয়ের। তারপর ই হয়ে ওঠে দেশের অন্যতম ভরসা যোগ্য খেলোয়াড়। নির্ধারিত সময়ে লেবাননের আক্রমণকে আটকানোর পর টাইব্রেকারে তিনি আটকে দিলেন লেবাননকে। টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে জিতল ভারত।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকে লেবানন। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই গোল পায় তারা। নাদের মাটা একটা সুযোগ পেয়েছিলেন কিন্তু তিনি গোলে রাখতে ব্যর্থ হন। ৬ মিনিটের মাথায় ফাউল করে ভারত। এরপর ম্যাচের ৮ মিনিটের মাথায় গুরপ্রীতকে ১-১ এ পেয়ে গিয়েছিলেন লেবাননের জেইন ফারান। কিন্তু দুর্দান্ত দক্ষতায় বলটা আটকে দেন গুরপ্রীত।
ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ ফাইনালে লেবানন যেই খেলাটা দেখিয়েছিল এই ম্যাচে সেই খেলায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। আর ডিফেন্সে সন্দেশের অভাব অনুভূত হচ্ছিল। তবে ভারত একেরপর এক আক্রমণ চালিয়ে যায়। ১৬ মিনিটের মাথায় গোলের সুযোগ পায় ভারত। ফের ২০ মিনিটের মাথায় একই ছবি। এবারও গোল করতে ব্যর্থ ভারত। ২৯ মিনিটে আনোয়ার গোলমুখী শট নিলেও আটকে দেন খালিল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে তারা দ্রুত আক্রমণে উঠতে থাকে। কিন্তু ভারতের ডিফেন্সে বারবার আটকে যায়। ৫৯ মিনিটের মাথায় গোলের সুযোগ পায় ভারত। ৬১ মিনিটে প্রতি আক্রমণ করতে যায় লেবানন। আটকে দেন গুরপ্রীত। এরপরই দুই দল খেলার ধরন বদলে দেয়। লেবানন আড়াআড়ি পাস খেলে এগোতে চায় কিন্তু ব্যর্থ হয়। অন্যদিকে ভারত পাসের সংখ্যা বাড়ায়। দুই দলই পুরো আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে
৭২ মিনিটের মাথায় আনোয়ার বল পেয়ে আশিক কুরুনিয়ারকে দেন। তিনি সেটা সুনীলকে দেন, কিন্তু সুনীলের শট আটকে দেন লেবানন গোলরক্ষক। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের শেষের দিকে লেবানন নিজেদের আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ায়। কিন্তু ভারতের ডিফেন্স ভাঙা সহজ ছিল না তাদের কাছে। অবশেষে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে সুনীল ছেত্রী দুবার গোল করার সুযোগ পান। কিন্তু বিপক্ষের ডেডলক ভাঙতে পারেননি। অন্যদিকে একই ছবি দেখা যায় লেবাননের ক্ষেত্রেও। এরপর এক্সট্রা টাইমে কোনও দলই গোল করতে পারেনি। ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকার পর্যন্ত।