ধর্মের ঐক্য সম্পর্কে আপনার মত কি? কেরালার এক কলেজের অনুষ্ঠানে এক ছাত্রের করা এই প্রশ্নের উত্তরে ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বলেন , “The lamp here on the stage points to a Hindu; the candle with which it will be lit denotes a Christian, and the person who will be lighting it shortly is a Muslim.” অর্থাৎ এখানে মঞ্চের প্রদীপটি একজন হিন্দুকে নির্দেশ করে; যে মোমবাতিটি দিয়ে এটি জ্বালানো হবে তা একজন খ্রিস্টানকে নির্দেশ করে এবং যে ব্যক্তি খুব শীঘ্রই এটি জ্বালাবে সে একজন মুসলিম।
আব্দুল কালামের ব্যাখ্যা অনুযায়ী ভারতে ধর্মীয় ঐক্যের এমনই নিদর্শন পাওয়া যায় কর্ণাটকের চেন্নকেশব মন্দিরের রথোৎসব-এ ।
নিকট অতীতে যখন হিংসার একাধিক ঘটনায় বার বার শিরোনামে উঠে আসছে কর্ণাটকের নাম তখনই রাজ্যের ৯০০ বছর পুরনো চেন্নকেশব মন্দিরের রথোৎসবের ঐতিহাসিক রীতি আরও একবার মনে করিয়ে দিল ভারতের ধর্মীয় সম্প্রিতির কথা। কর্ণাটকের হাসান জেলার বেলুড়ে অবস্থিত এই মন্দিরের ‘রথোৎসব’ শুরু হয় পবিত্র কোরান পাঠের পর।
আনুমানিক ৯০০ বছর আগে নির্মাণ হয়েছে এই মন্দির। ইতিহাস অনুযায়ী কর্ণাটক সহ ভারতের দক্ষিণের প্রায় ১০-১৪টি রাজ্যে তখন হোয়সালা শাসকদের অধিপত্য। সেই সময়ে কে বা কারা এই নিয়ম তৈরি করেছেন তা আজও অজানা। কিন্তু, মন্দিরের এক্সিকিউটিভ অফিসারের কথায়, মন্দিরের নির্দেশনামায় এই প্রথার কথা লেখা আছে ১৯৩২ থেকে। মন্দিরের প্রথা অনুযায়ী, রথের পাশে এক নির্দিষ্ট জায়গায় দাঁড়িয়ে কোনও এক মৌলবি এসে পাঠ করবেন কোরানের বিশেষ কিছু অংশ। তারপর সমারহে শুরু হবে পুজোর আয়োজন, ঘুরবে রথের চাকা। বর্তমানে, এই কোরান পাঠের দায়িত্বে রয়েছেন মৌলবি সৈয়দ সাদ্দাজ খাজি। বংশপরম্পরা মেনে তিনি এই উৎসবের অংশ হয়ে রয়েছেন ৫০ বছর ধরে, পরবর্তীকালে তাঁর সন্তানও এই পরম্পরা বজায় রাখবেন বলেই জানিয়েছেন তিনি। সৈয়দ সাদ্দাজ খাজি জানান, ‘বাইবেল, গীতা বা কোরান পড়া হোক না কেন, সমস্ত পাঠ্য একই বার্তা ছড়িয়ে দেয়।‘
রীতি বজায় রেখে চলতি মাসেই দুদিন ব্যাপী এই উৎসব পালন হলেও এবারের পুজোয় আদৌ পুরোনো রীতি মানা হবে কি না তা নিয়ে ছিল বেশ সংশয়। কিন্তু অবশেষে মন্দিরের একাধিক পুরোহিতের ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দিয়ে সব দিক বিবেচনা করে প্রশাসন নির্দেশ দেয়, পুরনো রীতি মেনে, সকল সম্প্রদায়ের উপস্থিতিতেই হবে পুজো। এই উৎসব সম্প্রীতির বার্তা আরও পবিত্রতায় এবং সত্যনিষ্ঠায় বয়ে আনবে বলেই আশাবাদী কর্ণাটকের সাধারণ মানুষ।