গত বৃহস্পতিবার পুনাতে আয়োজিত হওয়া জি২০ সম্মেলনে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে হওয়া আলোচনায়, সংস্কৃত শ্লোক, ভারতীয় সংস্কৃতি ও নারীশক্তি পুনঃ জাগরণ নিয়ে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। জি২০ আওতায় থাকা বাকি দেশগুলির উদ্দেশ্যে তিনি প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিয়ে “স্কিল ম্যাপিং”-এ একটি লম্বা বক্তব্য রাখেন। ভারত সরকারের ‘নিপুণ ভারত’ প্রকল্পকে সামনে রেখে তিনি বলেন,’সংস্কৃত শ্লোক উচ্চারণ করেই সর্বোপরি জ্ঞানলাভ করা সম্ভব হয়েছিল একদিন। আর সর্বোপরি জ্ঞান মানেই মানসিক শান্তি।’
মনোবিদদের মতে জনসাধারণে একাগ্রতা এখন মাত্র ৮ সেকেন্ডে এসে ঠেকেছে। তার অর্থ, মাত্র আঠ সেকেন্ডই একজন ডিজিটল মানুষ কোনকিছুতে একমনে মনোনিবেশ করতে পারে। এমতাবস্থায়, যদি প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার না করা হয়, তাহলে যে চরম দুর্গতি সুস্পস্ট, সেদিকে জোর দিয়েছেন তিনি।
নানা ভাষায় বিভক্ত এই দেড়শো কোটির ভারতবর্ষকে উদাহরণ করে তিনি বলেন,’দীক্ষা পোর্টালে এখনও পর্যন্ত ২৯টি দেশী ভাষা এবং চারটি বিদেশি ভাষায় স্কুল কেন্দ্রীক বিষয়ে পঠনপাঠন চালু রয়েছে। এখনও পর্যন্ত উচ্চশিক্ষা বিষয়ক নয় হাজার কোর্সে নাম নথিভুক্ত হয়েছে ৩.৪ কোটি। আরও বেশকিছু পূর্ব পরিকল্পিত নতুন ভাষায় শিক্ষাদানের সঙ্গে ২০৩০ এর মধ্যে প্রযুক্তি নিয়ে যে দেশে আলোড়ন সৃষ্টি হবে, এ নিয়ে আশাবাদী তিনি।
জি২০ সম্মেলনে প্রযুক্তি নিয়ে বক্তব্য রাখলেও, ভারতবর্ষ যে বর্তমানে শিক্ষার সাথে ছাত্রের পুষ্টি নিয়েও বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে, নিঃশব্দে তার প্রমাণ রাখল ভারত সরকার। গত মাসে, সারা দেশে সমীক্ষা করিয়ে নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে ছাত্রদের ‘অতিরিক্ত পুষ্টি’-র পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত একদিন মিলবে ডিম, একদিন মাংস ও অন্য একদিন সোয়াবিন। সম্মেলনের শেষে নরেন্দ্র মোদী বলেন,’দেশ গড়ার মূল কান্ডারি নিঃসন্দেহে শিক্ষা ব্যবস্থা। সুতরাং, শিক্ষাদানে জোর দেওয়া আমাদের প্রধান কর্তব্য।’