পুনর্নবীকরণ যোগ্য শক্তি বা উৎস কেবলমাত্র ভারতেই এর অত্যাধিক ব্যবহারের ফলে ভবিষ্যতে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে ৫ গুন কয়লা ব্যবহারের ফলে গ্যাসের নির্গমন হবে চার গুণ বেশি, আরো কয়লা আমদানি করতে হলে প্রথাগত বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বাড়বে। তবে সে ক্ষেত্রে জলবিদ্যুৎ একটি বিকল্প শক্তি হিসেবে গণ্য হবে ক্ষমতার সঙ্গে সংযুক্ত করা হলে একদিকে চাহিদা যেমন পূরণ হবে ইকনোমেকটিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে পাঁচ শতাংশ সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন যোগ করতে পারলে আমাদের ভবিষ্যতে বিদ্যুতের চাহিদা মিটে যাবে।
বায়ু থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ও ইতিমধ্যে কয়লা থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ হিসেবে কয়লার আমদানি ভারতে থাকায় ভর্তুকি ও বাইরের অন্যান্য খরচা না ধরেও বিদ্যুতের খরচ প্রতি কিলো বাটে ৬ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে গ্রিডের মাধ্যমে গ্রামগুলিকে সংযুক্ত করা বা লক্ষ লক্ষ প্রান্তিক মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার যে কাজ এখনো বাকি। তারও কোন দিশা প্রচলিত পথে পাওয়া সম্ভব নয় সৌর বিদ্যুৎ ও বিদ্যুতের মাঝামাঝি একমাত্র এগুলি সমাধান হতে পারে একই সঙ্গে মিশতে পারে গ্রীন হাউস গ্যাস নির্গমনের সমস্যা সৌরশক্তিকে জ্বালানির মুখ্য উৎস হিসেবে ব্যবহারযোগ্য করতে গেলে যে বিষয়গুলোর উপর জোর দেওয়া দরকার তা হল-
১. সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ প্রতি কিলোওয়াটে পাঁচ টাকা বা তার নিচে নামিয়ে আনা এজন্য উদ্ভাবনী শক্তি দক্ষতা নতুন যন্ত্রপাতির প্রয়োগ প্রয়োজন।
২. পর্যাপ্ত ও দক্ষ সঞ্চয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
৩. প্রত্যন্ত প্রান্তিক এলাকাগুলিকে বিদ্যুৎ গ্রীডের আওতায় আনা।
৪. শেষে গ্রিড সংযুক্ত বা ডিটেল চালিত পাম্পের বদলে সৌরশক্তি ব্যবহার।
একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে জল সেচের ক্ষেত্রে তরল জ্বালানিতে চলা পাম্প গুলি তুলনায় সৌরশক্তি চালিত পাম্প গুলির রক্ষণাবেক্ষণের খরচ অনেক কম। ডিজেলের ভর্তুকি দেওয়ার ক্ষেত্রে সৌরশক্তি উৎপাদনের খরচ ডিজেলের মাধ্যমে উৎপাদনে খরচের অর্ধেক। সৌরশক্তি চালিত পিভি পাম গুলি চালাতে কোন খরচই নেই রক্ষণাবেক্ষণের খরচ কম এবং এর কোন তদারকির ও দরকার হয় না। ভারতে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ও জমি হিসেবে অতীতের শক্তি রূপান্তর গুলি দহনে উল্লেখ করা প্রয়োজন বিশেষত কাঠ যার হাইড্রোজেন থেকে কার্বন অনুপাত (এইচ/সি) প্রায় ০.১, তা দিয়ে শুরু করে বাজার চলে যায় কয়লায় যার এইচ/সি অনুপাত ১, এবং তারপরে তেলের দিকে, যার অনুপাত ২, এবং তারও পরে প্রাকৃতিক গ্যাসে, যেখানে হাইড্রোজেন থেকে কার্বন অনুপাত ৪। এইচ/সি অনুপাতের পদ্ধতিগত বৃদ্ধি এই দৃষ্টিভঙ্গির দিকে চালিত করে যে হাইড্রোজেন শক্তি বাজারে ‘জয়ী’ হয়েছে, এবং অবশেষে শক্তির একমাত্র বাহক হয়ে উঠবে। গত দুই দশকে শুরু হওয়া আরই–র দিকে নীতিচালিত রূপান্তর, কিছু অর্থে, হাইড্রোজেনের পরিবর্তে প্রাথমিক শক্তি বাহক হিসাবে বিদ্যুৎকে নিয়ে এসে বাজারভিত্তিক রূপান্তরকে বাধাগ্রস্ত করেছে।